• NEWS PORTAL

  • শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬

জুমার নামাজ না পড়লে কী শাস্তি হতে পারে? 

প্রকাশিত: ১৬:৪৮, ৯ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
জুমার নামাজ না পড়লে কী শাস্তি হতে পারে? 

জুমার দিন মুসলমানদের জন্য বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। এদিন মসজিদে সমবেত হয়ে জামাতে জুমার নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। এর ফজিলত অনেক। কিন্তু নানা ব্যস্ততা, অলসতা কিংবা অবহেলায় কেউ যদি এই নামাজ ছেড়ে দেন, তাহলে ইসলামে রয়েছে তার শাস্তির বিধান। পরপর তিন জুমা আদায় না করলে হতে পারে আরও বড় পরিণতি। এ বিষয়ে কোরআন ও হাদিসে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা এবং কঠোর সতর্কবার্তা।

ইসলামে জুমার নামাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ ও শরিয়তের শর্ত পূরণকারী পুরুষ মুসলমানের জন্য কোনো গ্রহণযোগ্য ওজর ছাড়া জুমার নামাজ ছেড়ে দেওয়া গুরুতর গুনাহ। বিশেষ করে নিয়মিত অবহেলার কারণে এ নামাজ পরিত্যাগ করার বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন।

পরপর তিন জুমা ছেড়ে দিলে কী হয়?
জুমার নামাজ অবহেলা করার পরিণতি সম্পর্কে হাদিসে স্পষ্ট সতর্কবার্তা এসেছে। হজরত আবু আল-জাদ আদ-দামারি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি অবহেলা করে পরপর তিনটি জুমা ছেড়ে দেয়, আল্লাহ তার অন্তরে মোহর মেরে দেন।
(সুনান আবু দাউদ, হাদিস ১০৫২; জামে তিরমিজি, হাদিস ৫০২)

অন্তরে মোহর মেরে দেওয়ার এই সতর্কবার্তা মানুষের দ্বীনি জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে জুমার নামাজকে অবহেলা করার ভয়াবহতা তুলে ধরা হয়েছে। তবে এ হাদিসের অর্থ এই নয় যে, কেউ তিন জুমা ছেড়ে দিলেই তার ঈমান শেষ হয়ে যায়। বরং বিষয়টি গুরুতর সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

জুমার নামাজ ছেড়ে দেওয়া কেন গুরুতর অপরাধ?
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা জুমার নামাজের আহ্বানে সাড়া দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে সূরা আল-জুমুআর ৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে—

“হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং বেচাকেনা ছেড়ে দাও।”

এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, জুমার নামাজের সময় দুনিয়াবি ব্যস্ততার চেয়ে আল্লাহর নির্দেশ পালনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তাই কোনো শরয়ি ওজর ছাড়া ব্যবসা, চাকরি কিংবা ব্যক্তিগত কাজের অজুহাতে নিয়মিত জুমার নামাজ ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়।
বারবার জুমা ছেড়ে দিলে কী পরিণতি হতে পারে?

জুমার নামাজ ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে হাদিসে একাধিক সতর্কবার্তা রয়েছে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) ও আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মানুষ যেন জুমার নামাজ ছেড়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকে; অন্যথায় আল্লাহ তাদের অন্তরে মোহর মেরে দেবেন, অতঃপর তারা উদাসীনদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
(সহিহ মুসলিম, হাদিস ৮৬৫)

এই হাদিসে জুমার নামাজের প্রতি অবহেলার পরিণতি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। আল্লাহর স্মরণ থেকে উদাসীন হয়ে পড়া একজন মুসলমানের জন্য বড় ক্ষতির বিষয়। তাই জুমার নামাজকে হালকাভাবে নেওয়া কিংবা বিনা কারণে বারবার ছেড়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকা জরুরি।

জুমার নামাজ ছুটে গেলে করণীয় কী?
কোনো গ্রহণযোগ্য শরয়ি ওজর ছাড়া জুমার নামাজ ছেড়ে দিলে আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে। ভবিষ্যতে নিয়মিত নামাজ আদায়ের দৃঢ় সংকল্প করতে হবে এবং জুমার নামাজের প্রতি অবহেলা পরিহার করতে হবে।

কোনো কারণে জুমার নামাজ আদায় করা সম্ভব না হলে জুমার পরিবর্তে জোহরের চার রাকাত ফরজ নামাজ আদায় করতে হয়। অসুস্থতা বা শরিয়তস্বীকৃত অন্য কোনো ওজরের কারণে জুমায় উপস্থিত হতে না পারলে তার বিধান আলাদা। তাই পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্ভরযোগ্য আলেমের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

(পবিত্র কোরআন, সূরা আল-জুমুআ, আয়াত ৯; সুনান আবু দাউদ, হাদিস ১০৫২; জামে তিরমিজি, হাদিস ৫০২; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৮৬৫)

বিভি/টিটি

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত